Raj Hatcheries

নিয়মমাফিক বায়োসিকিউরিটি

বায়োসিকিউরিটির নিয়মই আমাদের উৎপাদনের ভিত্তি। রোগজীবাণুকে উৎপাদন থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি হ্যাচারিতে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, জল শোধন ব্যবস্থা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ চালু আছে, আর পাঠানোর আগে প্রতিটি ব্যাচের PCR পরীক্ষা হয়।

আমাদের পদ্ধতি চিংড়ি চাষের প্রতিষ্ঠিত বায়োসিকিউরিটি মান মেনে চলে, এলাকার অবস্থা অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া, এবং পর্যবেক্ষণের তথ্য ও শিল্পের নতুন অগ্রগতির ভিত্তিতে ক্রমাগত উন্নত করা হয়।

আমাদের ব্রুডস্টক Specific Pathogen Free, CAA-অনুমোদিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে আনা।

প্রতিটি ব্যাচে কীসের পরীক্ষা হয়

হ্যাচারি থেকে কোনো ব্যাচ বেরোনোর আগে ভারতের ভেনামি চাষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে এমন চারটি রোগজীবাণুর জন্য PCR পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট বীজের সঙ্গে যায়।

পরীক্ষার জন্য একটি স্বচ্ছ নমুনা-বাটিতে চিংড়ি তুলে ধরা হয়েছে
  • WSSV

    হোয়াইট স্পট সিনড্রোম ভাইরাস (White spot syndrome virus)

    ভাইরাস

    সারা পৃথিবীতে চাষের চিংড়ির সবচেয়ে ক্ষতিকর ভাইরাস রোগ। একবার রোগ দেখা দিলে কয়েক দিনের মধ্যে গোটা পুকুর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

  • EHP

    Enterocytozoon hepatopenaei

    মাইক্রোস্পোরিডিয়ান পরজীবী

    হেপাটোপ্যানক্রিয়াসে সংক্রমণ করে। সরাসরি মৃত্যু কমই ঘটায়, কিন্তু বৃদ্ধি ধীর হয় এবং ধরার সময় চিংড়ির আকারে অনেক তফাত থাকে।

  • IHHNV

    ইনফেকশাস হাইপোডার্মাল অ্যান্ড হেমাটোপয়েটিক নেক্রোসিস ভাইরাস (Infectious hypodermal and haematopoietic necrosis virus)

    ভাইরাস

    ভেনামিতে এটি রান্ট-ডিফর্মিটি সিনড্রোমের সঙ্গে যুক্ত: বৃদ্ধি আটকে যায়, রোস্ট্রাম (মাথার কাঁটা) বেঁকে যায়, ফলে ধরা চিংড়ির দাম কমে।

  • AHPND

    অ্যাকিউট হেপাটোপ্যানক্রিয়াটিক নেক্রোসিস ডিজিজ (Acute hepatopancreatic necrosis disease)

    ব্যাকটেরিয়ার বিষ (টক্সিন)

    PirA/PirB টক্সিন জিন বহনকারী Vibrio স্ট্রেন থেকে হয়। একে EMS-ও বলা হয়; বীজ ছাড়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে আক্রমণ করে।

PCR-এর ফলাফল শুধু যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটির কথা বলে, এবং শুধু পরীক্ষার দিনের কথা। রিপোর্টটি ব্যাচ রেফারেন্সের সঙ্গে আপনার খামারের রেকর্ডে রেখে দিন।

ব্রুডস্টক থেকে পুকুর পর্যন্ত একটি পথ

ট্রেসেবিলিটি মানে একটা পরীক্ষা নয়। ব্যাচ যে যে ধাপ পার হয়, প্রতিটিতে একটি করে রেকর্ড, আর সবকটি একটি রেফারেন্সের সঙ্গে যুক্ত।

  1. ধাপ 1

    ব্রুডস্টক

    CAA-অনুমোদিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে আনা Specific Pathogen Free (SPF) ব্রুডস্টক। উৎপাদনে নেওয়ার আগে PCR পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন করা হয়।

    লিখে রাখা হয়: উৎস ও পরীক্ষার ফলাফল

  2. ধাপ 2

    ডিম ছাড়া

    ডিম ছাড়ার প্রায় এক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে নপলিয়াস বের হয়। প্রতিটি স্পনিং কোন ব্রুডস্টক থেকে এসেছে, তা লিখে রাখা হয়।

    লিখে রাখা হয়: ডিম ছাড়ার তারিখ ও কোন মা-বাবা চিংড়ি থেকে

  3. ধাপ 3

    লার্ভা পালন

    নিয়ন্ত্রিত ট্যাঙ্কে নপলিয়াস, জোয়িয়া ও মাইসিস দশা পার হয়। প্রতিদিন মাইক্রোস্কোপে স্বাস্থ্য, খাওয়া ও বৃদ্ধি দেখা হয়।

    লিখে রাখা হয়: ট্যাঙ্কের প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ

  4. ধাপ 4

    PCR পরীক্ষা

    পাঠানোর আগে প্রতিটি ব্যাচ WSSV, EHP, IHHNV ও AHPND-এর জন্য পরীক্ষা করা হয়, আর আকারের সমতা ও চঞ্চলতা (সক্রিয়তা) দেখা হয়।

    লিখে রাখা হয়: ব্যাচের PCR রিপোর্ট

  5. ধাপ 5

    বীজ পাঠানো

    ব্যাচটি একটি আলাদা রেফারেন্স নম্বর নিয়ে রওনা হয়, যা ওপরের সব রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার PCR রিপোর্টও বীজের সঙ্গে যায়।

    লিখে রাখা হয়: ডেলিভারির সঙ্গে ব্যাচ রেফারেন্স

  6. ধাপ 6

    আপনার পুকুর

    বীজকে পুকুরের জলের সঙ্গে মানিয়ে নিন (অ্যাক্লিমেটাইজেশন), দিনের ঠান্ডা সময়ে ছাড়ুন, আর ব্যাচ রেফারেন্সটি রেখে দিন। নম্বরটি জানালেই জোন টিম পুরো ইতিহাস বের করে দেবে।

    লিখে রাখা হয়: প্রতিটি রেকর্ডের আপনার কপি

মান নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া

  • জলের মান পরিচালনা

    কয়েক ধাপের ছাঁকনি ও শোধন ব্যবস্থা জলের মাপকাঠি নিয়ন্ত্রণে রাখে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর লবণাক্ততা, তাপমাত্রা ও দ্রবীভূত অক্সিজেন পরীক্ষা করা হয়, এবং জলে রোগজীবাণু আছে কি না, তা পরীক্ষা (স্ক্রিনিং) করা হয়।

  • ব্রুডস্টক পরীক্ষা

    উৎপাদনে আনার আগে সব ব্রুডস্টকের প্রধান রোগজীবাণুর জন্য PCR পরীক্ষা হয়। কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মেনে শুধু পরীক্ষায় নেগেটিভ আসা চিংড়িই প্রজননে যায়।

  • লার্ভার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ

    প্রতিদিন দেখে ও পরীক্ষা করে লার্ভার স্বাস্থ্যের লক্ষণ, বৃদ্ধির হার এবং বৃদ্ধির ধাপগুলো নজরে রাখা হয়। মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে সম্ভাব্য সমস্যা ব্যাচের মানে প্রভাব ফেলার আগেই ধরা পড়ে।

  • হ্যাচারি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

    এক উৎপাদন থেকে পরের উৎপাদনের মাঝে নিয়ম মেনে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করায় রোগজীবাণু থেকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। সব যন্ত্রপাতি ও জায়গা যাচাই করা পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা হয়।

  • পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ

    নিয়ন্ত্রিত প্রবেশের অংশ, পা ধোয়ার জীবাণুনাশক জল (ফুটবাথ) এবং যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা বাইরের দূষণ আটকায়। উৎপাদনের জায়গায় ঢোকার সময় কর্মীরা কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন।

  • ব্যাচ পরীক্ষা

    ডেলিভারির আগে পরীক্ষা করে যাচাই করা হয় যে প্রতিটি ব্যাচ আকারের সমতা, চঞ্চলতা এবং WSSV, EHP, IHHNV ও AHPND-এর PCR নেগেটিভ ফলাফলের মান পূরণ করছে। প্রতিটি চালানের সঙ্গে পুরো কাগজপত্র যায়।

পরীক্ষার নিয়ম ও ট্রেসেবিলিটি

আমাদের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধাপগুলোতে পরীক্ষা হয়। ভাইরাসের জন্য PCR পরীক্ষা, পরজীবীর জন্য মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা এবং জলের মান বিশ্লেষণ নির্দিষ্ট সময় অন্তর করা হয়।

প্রতিটি ব্যাচ একটি আলাদা শনাক্তকরণ কোড পায়, যা উৎপাদনের রেকর্ড, পরীক্ষার ফলাফল এবং ডেলিভারির কাগজপত্রকে যুক্ত করে। এই ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থায় ব্রুডস্টকের উৎস থেকে খামারে ডেলিভারি পর্যন্ত পুরোটা খুঁজে দেখা যায়।

টেকনিক্যাল ম্যানেজাররা বিস্তারিত ব্যাচ রিপোর্ট পান, যাতে থাকে পরীক্ষার ফলাফল, বৃদ্ধির তথ্য ও রাখা-নাড়াচাড়ার পরামর্শ। এই স্বচ্ছতার ফলে জেনেবুঝে বীজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ও খামারের পরিকল্পনা করা যায়।

সব হ্যাচারিতে একই মান

Raj Hatcheries-এর সব হ্যাচারি একই বায়োসিকিউরিটি নিয়ম ও মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মেনে চলে। ফলে বীজ যেখানেই তৈরি হোক, তার মান একই থাকে।

নিয়মিত অডিট করে যাচাই করা হয় যে সব হ্যাচারিতে নিয়ম মানা হচ্ছে। একই মান বজায় রাখতে ও ক্রমাগত উন্নতির জন্য টেকনিক্যাল টিমগুলো পর্যবেক্ষণের তথ্য ও কাজের অভিজ্ঞতা একে অপরকে জানায়।