খাবার বাছাই ও খাবারের মান
খাবারের মান সরাসরি বৃদ্ধির হার, খাবার রূপান্তর হার (FCR) ও চাষের খরচ-লাভে প্রভাব ফেলে। বয়সের দশা অনুযায়ী তৈরি, উপযুক্ত প্রোটিন ও পুষ্টি আছে এমন খাবার বেছে নিন।
চিংড়ি যত বড় হয়, প্রোটিনের দরকার তত কমে। প্রথম দিকে 35-40% প্রোটিন লাগে, পরের দিকে 30-35% প্রোটিনের খাবারেই ভালো ফল হয়। খাবার ঠিকভাবে রাখলে পুষ্টি নষ্ট হয় না এবং দূষিত হয় না। ঠান্ডা, শুকনো জায়গায় রাখুন এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ভালোভাবে খাওয়ার জন্য খাবারের দানার মাপ চিংড়ির মাপের সঙ্গে মিলতে হবে। খুব ছোট দানা জলে গলে গিয়ে খাবার নষ্ট হয়। খুব বড় দানা চিংড়ি কম খায়, খাওয়ানোর কার্যকারিতা কমে। চাষের সময় চিংড়ি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দানার মাপ বদলান।
খাওয়ানোর পদ্ধতি ও নজরদারি
খাবারের পরিমাণ ঠিক করতে হয় ভালো বৃদ্ধি, জলের মান ঠিক রাখা এবং খরচের ভারসাম্য দেখে। আনুমানিক মোট ওজন (বায়োমাস) ধরে খাবারের পরিমাণ ঠিক করুন, আর জলের তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন ও চিংড়ি কেমন খাচ্ছে, তা দেখে কমবেশি করুন।
একবারে অনেকটা খাবার দেওয়ার চেয়ে দিনে কয়েকবার (3-4 বার) দিলে খাবার ভালোভাবে কাজে লাগে। সব চিংড়ি যাতে খাবার পায়, তাই পুকুরের সব জায়গায় সমানভাবে খাবার ছড়ান। দ্রবীভূত অক্সিজেন কম থাকার সময় বা জলের মানে গোলমালের পরে খাবার কমিয়ে দিন।
চেক ট্রে দিয়ে দেখুন চিংড়ি কেমন খাচ্ছে, আর সেই অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করুন। পুকুরের কয়েকটি জায়গায় ট্রে রাখুন এবং খাবার দেওয়ার 1-2 ঘণ্টা পরে দেখুন। সব খাবার শেষ হয়ে গেলে পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ আছে। খাবার পড়ে থাকলে বুঝতে হবে বেশি খাবার দেওয়া হচ্ছে, অথবা স্বাস্থ্যের সমস্যা আছে, যা খতিয়ে দেখা দরকার।