Raj Hatcheries

এই নির্দেশিকা কীভাবে ব্যবহার করবেন

এই তথ্যভাণ্ডারে চিংড়ি চাষি ও টেকনিক্যাল ম্যানেজারদের জন্য কাজের তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠিত চিংড়ি চাষ পদ্ধতির ভিত্তিতে কাজের নিয়ম, জলের মান পরিচালনা ও খামারের পরিকল্পনার ওপর।

এই তথ্য আমাদের আঞ্চলিক টিমের টেকনিক্যাল সহায়তার পরিপূরক। আপনার খামারের নির্দিষ্ট অবস্থা বা টেকনিক্যাল প্রশ্নের জন্য আপনার স্থানীয় বিজনেস ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

এক নজরে জলের মান

ভেনামি গ্রো-আউটের জন্য কাজের সীমা, যা এই পুরো নির্দেশিকায় ব্যবহার করা হয়েছে। পুকুর তৈরির সময় প্রতিদিন, আর চাষের পুরো সময় নিয়মিত পরীক্ষা করুন; হঠাৎ বিপর্যয়ের চেয়ে ধীরে ধীরে সরে যাওয়া মান ঠিক করা অনেক সহজ।

  • তাপমাত্রা

    28–32 °C

    ভালো বৃদ্ধির জন্য। এর চেয়ে অনেক কম হলে খাওয়া কমে যায়।

  • লবণাক্ততা

    15–25 ppt

    নোনা জলের চাষে সাধারণত এই মাত্রা থাকে। অ্যাক্লিমেটাইজ হয়ে গেলে ভেনামি এর চেয়ে অনেক বেশি পরিসরে টিকে থাকে।

  • দ্রবীভূত অক্সিজেন

    ন্যূনতম 5 mg/L

    5-এর ওপরে রাখুন। ভোরের ঠিক আগে সবচেয়ে কম থাকে, তাই তখনই মাপুন।

  • pH

    7.5–8.5

    মান কত, তার মতোই জরুরি মান স্থির থাকা।

  • ক্ষারত্ব (অ্যালকালিনিটি)

    ন্যূনতম 80 mg/L

    pH-এর ওঠানামা থেকে পুকুরকে রক্ষা করে।

জলের মান পরিচালনা

জলের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি

জলের মাপকাঠি স্থির রাখা সফল চিংড়ি চাষের ভিত্তি। তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, pH ও ক্ষারত্ব পুরো চাষের সময় নিয়মিত মাপা ও দরকারমতো ঠিক করা দরকার।

ভালো বৃদ্ধির জন্য তাপমাত্রা 28-32°C-এর মধ্যে থাকা উচিত। লবণাক্ততার প্রয়োজন প্রজাতি ও বয়সের দশা অনুযায়ী আলাদা, নোনা জলের চাষে ভেনামির জন্য সাধারণত 15-25 ppt। দ্রবীভূত অক্সিজেন 5 mg/L-এর ওপরে থাকলে চিংড়ির বিপাক ও খাওয়া ভালো থাকে।

pH 7.5-8.5-এর মধ্যে স্থির থাকলে চিংড়ির চাপ (স্ট্রেস) কম হয় এবং জলের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় থাকে। ক্ষারত্ব 80 mg/L-এর ওপরে থাকলে pH-এর ওঠানামা সামলানোর ক্ষমতা থাকে। নিয়মিত পরীক্ষা করলে চিংড়ির স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ার আগেই মাপকাঠি সরে যাওয়া ধরা পড়ে।

জল বদল ও শোধন

জল বদলের সময় বর্জ্য সরানো আর বায়োসিকিউরিটি, দুটোর ভারসাম্য রাখতে হয়। উৎসের জল ঠিকমতো শোধন করা হলে আংশিক জল বদলে জমে থাকা বর্জ্য বেরিয়ে যায়, আবার রোগজীবাণু ঢোকার ঝুঁকিও কম থাকে।

ছাঁকনি ব্যবস্থা ঢোকার জল থেকে কণা ও রোগ ছড়াতে পারে এমন জীব সরিয়ে দেয়। থিতানোর ট্যাঙ্ক, বালির ফিল্টার ও ব্যাগ ফিল্টার দিয়ে যান্ত্রিকভাবে শোধন হয়। উৎসের জলে রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুরক্ষা দেয় UV দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা বা ক্লোরিন দেওয়া।

কতটা জল বদলাবেন, তা নির্ভর করে বীজ ছাড়ার ঘনত্ব, খাবারের পরিমাণ ও পুকুরের অবস্থার ওপর। বেশি ঘনত্বে চাষ করলে জলের মাপকাঠি গ্রহণযোগ্য সীমায় রাখতে সাধারণত ঘন ঘন জল বদল বা বেশি এয়ারেশন দরকার হয়।

পুকুর তৈরি ও বীজ ছাড়া

বীজ ছাড়ার আগের কাজ

এক চাষ শেষে পরের চাষের আগে পুকুর ভালোভাবে তৈরি করলে রোগ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং নতুন বীজের জন্য উপযুক্ত অবস্থা তৈরি হয়। পুরো জল বের করে দেওয়া, রোদে শুকানো এবং তলদেশ শোধন করলে আগের চাষের রোগজীবাণু ও জমে থাকা জৈব পদার্থ দূর হয়।

চুন দিলে মাটির pH ঠিক হয় এবং জীবাণুনাশের কাজও হয়। মাত্রা মাটির অবস্থার ওপর নির্ভর করে, সাধারণত হেক্টর প্রতি 500-1000 kg। রোগজীবাণু যতটা সম্ভব দূর করতে, চুন দেওয়ার পর পুকুর পুরোপুরি শুকিয়ে তবে আবার জল ভরুন।

জল ভরার পর বীজ ছাড়ার আগে 7-10 দিন জলের মাপকাঠি স্থির হতে দিন। সার দিয়ে পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার তৈরি করুন, যাতে পোস্ট-লার্ভা খাবার পায়। এই তৈরির সময়ে প্রতিদিন জলের মান পরীক্ষা করুন।

বীজ ছাড়ার ঘনত্ব ও অ্যাক্লিমেটাইজেশন

কত ঘনত্বে বীজ ছাড়বেন, তা ঠিক করতে উৎপাদনের লক্ষ্য, সামলানোর ক্ষমতা আর কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন, তার ভারসাম্য দেখতে হয়। কম ঘনত্বে (30-50 PL/m²) রোগের চাপ কম থাকে এবং সামলানো সহজ হয়। Coastal Aquaculture Authority (CAA)-র ভেনামি নির্দেশিকায় সর্বোচ্চ সীমা 60 PL/m²; এই সীমার কাছাকাছি ঘনত্বে বেশি এয়ারেশন ও জলের মানের ওপর আরও কড়া নজর দরকার।

ঠিকভাবে অ্যাক্লিমেটাইজ করলে বীজ ছাড়ার ধাক্কা কমে এবং বাঁচার হার বাড়ে। তাপমাত্রা সমান করতে বন্ধ ব্যাগগুলো 20-30 মিনিট পুকুরের জলে ভাসিয়ে রাখুন। তারপর লবণাক্ততা ও pH-এর তফাত মেলাতে 30-45 মিনিট ধরে ধীরে ধীরে ব্যাগের জলে পুকুরের জল মেশান।

তাপমাত্রার ধাক্কা কমাতে দিনের ঠান্ডা সময়ে (ভোরে বা সন্ধ্যায়) বীজ ছাড়ুন। জল ভালোভাবে চলাচল করে এমন অগভীর জায়গায় আস্তে আস্তে পোস্ট-লার্ভা ছাড়ুন। অ্যাক্লিমেটাইজেশন ঠিকঠাক হয়েছে কি না বুঝতে বীজ ছাড়ার পর 24-48 ঘণ্টা ওদের আচরণ লক্ষ করুন।

সংখ্যায় পুকুর তৈরি ও বীজ ছাড়া

  • পুকুরের তলায় চুন

    500–1000 kg/ha

    মাটির অবস্থার ওপর নির্ভর করে। চুন দেওয়ার পর পুকুর পুরোপুরি শুকাতে দিন।

  • বীজ ছাড়ার আগে স্থির হতে দিন

    7–10 দিন

    এই পুরো সময় প্রতিদিন জল পরীক্ষা করুন।

  • বীজ ছাড়ার ঘনত্ব

    30–60 PL/m²

    30–50 সামলানো সহজ। CAA নির্দেশিকায় ভেনামি বীজ ছাড়ার সর্বোচ্চ সীমা 60 PL/m²।

  • ব্যাগে পুকুরের জল মেশানো

    30–45 মিনিট

    তাপমাত্রা সমান করতে 20–30 মিনিট ভাসিয়ে রাখার পর।

বীজ, SPF ও PCR রিপোর্ট

SPF মানে কী

SPF মানে Specific Pathogen Free (নির্দিষ্ট রোগজীবাণুমুক্ত)। এর অর্থ, বীজটি এমন একটি চিংড়ি-গোষ্ঠী থেকে এসেছে, যাকে দীর্ঘ সময় ধরে একটি নজরদারি কর্মসূচির অধীনে পরীক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট তালিকার রোগজীবাণু পাওয়া যায়নি। এটি স্বাস্থ্যের অবস্থা ও তার ইতিহাস সম্পর্কে একটি বক্তব্য।

SPF মানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নয়। একটি SPF পোস্ট-লার্ভা হ্যাচারি ছাড়ার সময় ওই রোগজীবাণুমুক্ত থাকে; পরে পুকুরে সেগুলোর সংস্পর্শে এলে সে সুরক্ষিত নয়। তাই চাষ কেমন হবে, তা এখনও খামারের বায়োসিকিউরিটির ওপরই নির্ভর করে।

আপনার হ্যাচারিকে জিজ্ঞাসা করুন, তাদের ব্রুডস্টক কোন কোন রোগজীবাণুমুক্ত বলে সার্টিফায়েড, আর ব্রুডস্টক কোথা থেকে আসে। Coastal Aquaculture Authority-র নিয়ম অনুযায়ী, ভেনামি বীজ অবশ্যই অনুমোদিত ব্রুডস্টক ব্যবহারকারী রেজিস্টার্ড হ্যাচারি থেকে আসতে হবে।

PCR রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন

PCR (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) নমুনার মধ্যে রোগজীবাণুর জিনগত উপাদান খুঁজে বের করে। কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই এটি সংক্রমণ ধরতে পারে, তাই চিংড়ির বীজের জন্য এটিই প্রচলিত পরীক্ষা।

ভারতে ভেনামি বীজের রিপোর্টে সাধারণত থাকে WSSV (হোয়াইট স্পট সিনড্রোম ভাইরাস), EHP (Enterocytozoon hepatopenaei), IHHNV (infectious hypodermal and haematopoietic necrosis virus) এবং AHPND (acute hepatopancreatic necrosis disease)। প্রতিটি লাইনে নেগেটিভ লেখা থাকা উচিত, সঙ্গে নমুনার তারিখ ও কোন ব্যাচের নমুনা।

নেগেটিভ ফল শুধু যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটির কথা বলে, এবং শুধু পরীক্ষার দিনের কথা। রিপোর্টটি ব্যাচ রেফারেন্স ও আপনার বীজ ছাড়ার রেকর্ডের সঙ্গে রেখে দিন, যাতে পরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনি ও হ্যাচারি পেছনে ফিরে খুঁজে দেখতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ও বায়োসিকিউরিটি

খামারের বায়োসিকিউরিটি

বায়োসিকিউরিটির নিয়ম রোগজীবাণু ঢোকা আটকায় এবং এক পুকুর থেকে আরেক পুকুরে রোগ ছড়ানো সীমিত রাখে। খামারে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, যন্ত্রপাতি পরিষ্কার রাখা এবং জল শোধন, এগুলোই কার্যকর বায়োসিকিউরিটির ভিত্তি।

পুকুরে ঢোকার মুখে জীবাণুনাশক দেওয়া পা ধোয়ার জায়গা (ফুটবাথ) রাখুন। একেক পুকুরের জন্য আলাদা যন্ত্রপাতি রাখুন, এক পুকুরের জিনিস আরেক পুকুরে ব্যবহার করবেন না। ভাগ করে ব্যবহার করতেই হলে প্রতিবার ব্যবহারের মাঝে সব যন্ত্রপাতি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন।

যাচাই করা বায়োসিকিউরিটি নিয়ম ও পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে এমন হ্যাচারি থেকে পোস্ট-লার্ভা নিন। প্রধান রোগজীবাণুর PCR পরীক্ষার ফল সহ ব্যাচের কাগজপত্র চেয়ে নিন। নতুন চিংড়ি আনলে কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম বাড়তি সুরক্ষা দেয়।

আগেভাগে রোগ ধরা ও নজরদারি

নিয়মিত নজর রাখলে বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই রোগ ধরা পড়ে। প্রতিদিন খাওয়ার ধরন, সাঁতারের ধরন ও চেহারা লক্ষ করলে স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য সমস্যা বোঝা যায়।

খাওয়া কমে যাওয়া, ঝিমিয়ে থাকা বা অস্বাভাবিকভাবে সাঁতার কাটা চাপ (স্ট্রেস) বা রোগের লক্ষণ। শারীরিক লক্ষণের মধ্যে আছে রং বদলে যাওয়া, খোলসে অস্বাভাবিকতা বা ফুলকার ক্ষতি। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন বুঝতে যা দেখছেন তা নিয়ম করে লিখে রাখুন।

পরীক্ষাগারের পরীক্ষায় রোগ নিশ্চিত হয় এবং কোন রোগজীবাণু, তা জানা যায়। PCR পরীক্ষা লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ভাইরাসের রোগ ধরতে পারে। মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে পরজীবী ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ধরা যায়। আগে রোগ নির্ণয় হলে নির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

খাওয়ানোর ব্যবস্থাপনা

খাবার বাছাই ও খাবারের মান

খাবারের মান সরাসরি বৃদ্ধির হার, খাবার রূপান্তর হার (FCR) ও চাষের খরচ-লাভে প্রভাব ফেলে। বয়সের দশা অনুযায়ী তৈরি, উপযুক্ত প্রোটিন ও পুষ্টি আছে এমন খাবার বেছে নিন।

চিংড়ি যত বড় হয়, প্রোটিনের দরকার তত কমে। প্রথম দিকে 35-40% প্রোটিন লাগে, পরের দিকে 30-35% প্রোটিনের খাবারেই ভালো ফল হয়। খাবার ঠিকভাবে রাখলে পুষ্টি নষ্ট হয় না এবং দূষিত হয় না। ঠান্ডা, শুকনো জায়গায় রাখুন এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।

ভালোভাবে খাওয়ার জন্য খাবারের দানার মাপ চিংড়ির মাপের সঙ্গে মিলতে হবে। খুব ছোট দানা জলে গলে গিয়ে খাবার নষ্ট হয়। খুব বড় দানা চিংড়ি কম খায়, খাওয়ানোর কার্যকারিতা কমে। চাষের সময় চিংড়ি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দানার মাপ বদলান।

খাওয়ানোর পদ্ধতি ও নজরদারি

খাবারের পরিমাণ ঠিক করতে হয় ভালো বৃদ্ধি, জলের মান ঠিক রাখা এবং খরচের ভারসাম্য দেখে। আনুমানিক মোট ওজন (বায়োমাস) ধরে খাবারের পরিমাণ ঠিক করুন, আর জলের তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন ও চিংড়ি কেমন খাচ্ছে, তা দেখে কমবেশি করুন।

একবারে অনেকটা খাবার দেওয়ার চেয়ে দিনে কয়েকবার (3-4 বার) দিলে খাবার ভালোভাবে কাজে লাগে। সব চিংড়ি যাতে খাবার পায়, তাই পুকুরের সব জায়গায় সমানভাবে খাবার ছড়ান। দ্রবীভূত অক্সিজেন কম থাকার সময় বা জলের মানে গোলমালের পরে খাবার কমিয়ে দিন।

চেক ট্রে দিয়ে দেখুন চিংড়ি কেমন খাচ্ছে, আর সেই অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করুন। পুকুরের কয়েকটি জায়গায় ট্রে রাখুন এবং খাবার দেওয়ার 1-2 ঘণ্টা পরে দেখুন। সব খাবার শেষ হয়ে গেলে পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ আছে। খাবার পড়ে থাকলে বুঝতে হবে বেশি খাবার দেওয়া হচ্ছে, অথবা স্বাস্থ্যের সমস্যা আছে, যা খতিয়ে দেখা দরকার।

চিংড়ি ধরার পরিকল্পনা ও কাজ

কখন চিংড়ি ধরবেন

কখন চিংড়ি ধরবেন, তা ঠিক করতে লক্ষ্যের আকার, বাজারের অবস্থা ও চাষের সময়সূচির ভারসাম্য দেখতে হয়। গ্রো-আউটের পুরো সময় নিয়মিত নমুনা তুলে বৃদ্ধির হার ও আকারের বণ্টন দেখলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

লক্ষ্যের আকার নির্ভর করে বাজারের চাহিদা ও দামের কাঠামোর ওপর। কাউন্ট অনুযায়ী দামে বড় চিংড়ির দাম বেশি, আবার কিছু বাজার নির্দিষ্ট আকারের চিংড়ি পছন্দ করে। বর্তমান বৃদ্ধির হার ও চাষের বাকি সময় ধরে কত বড় চিংড়ি ধরবেন, তার হিসাব করুন।

বাজারের দাম ও পরিবহনে মরসুমের প্রভাব মাথায় রাখুন। ধরার আগে ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে তাঁর চাহিদা নিশ্চিত করুন এবং গাড়ির ব্যবস্থা করুন। চিংড়ির চাপ কমাতে ও মাল ভালো রাখতে ধরার সময় পরিকল্পনা করে ঠিক করুন।

চিংড়ি ধরার পদ্ধতি

ঠিক পদ্ধতিতে ধরলে চিংড়ির মান ভালো থাকে এবং বেশি চিংড়ি তোলা যায়। পেট খালি হওয়ার জন্য ধরার 12-24 ঘণ্টা আগে খাবার দেওয়া বন্ধ করুন। আংশিক জল বের করে দিলে চিংড়ি এক জায়গায় জড়ো হয়, সহজে ধরা যায়।

তাপমাত্রার চাপ কমাতে ঠান্ডা সময়ে (রাতে বা ভোরে) চিংড়ি ধরুন। শরীরে আঘাত কমাতে উপযুক্ত জাল ও ঠিকভাবে ধরার কায়দা ব্যবহার করুন। ধরা ও বাছাইয়ের সময় চিংড়িকে পরিষ্কার, ভালো বাতাস দেওয়া জলে রাখুন।

মান ধরে রাখতে ধরার সঙ্গে সঙ্গে চিংড়ি বরফে দিন। প্রক্রিয়াকরণ কারখানা বা বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো পথে ঠান্ডা রাখুন (কোল্ড চেইন)। উৎপাদনের রেকর্ড ও চাষের বিশ্লেষণের জন্য ধরা চিংড়ির ওজন, আকার ও মান সম্পর্কে যা দেখলেন, লিখে রাখুন।

ভারতে ভেনামি

প্রজাতি

ভেনামি হল প্যাসিফিক হোয়াইটলেগ চিংড়ি, Penaeus vannamei (এখনও প্রায়ই Litopenaeus vannamei লেখা হয়)। এর আদি বাস লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে, মেক্সিকো থেকে পেরু পর্যন্ত, আর এখন এটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া চিংড়ি।

চাষের জন্য এটি উপযুক্ত কারণ এটি তাড়াতাড়ি বাড়ে, লবণাক্ততা ও তাপমাত্রার বড় পরিসর সহ্য করতে পারে, আর জলের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরো স্তর ব্যবহার করে, যার ফলে দেশি বাগদা (টাইগার চিংড়ি)-র চেয়ে বেশি ঘনত্বে বীজ ছাড়া যায়।

কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়

ভারত 2009 সালে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চাষের অনুমতি দেয়, Coastal Aquaculture Authority (CAA)-র জারি করা নির্দেশিকার অধীনে। CAA হল Coastal Aquaculture Authority Act, 2005 অনুযায়ী গঠিত সংস্থা। কয়েক বছরের মধ্যেই ভেনামি দেশের প্রধান চাষের চিংড়ি হয়ে ওঠে।

এই নিয়মগুলো বীজের পুরো শৃঙ্খলকে ধরে। ভেনামি বীজ তৈরি করা হ্যাচারিগুলোকে CAA-তে রেজিস্টার্ড হতে হবে, আর বিদেশ থেকে আনা ব্রুডস্টককে SPF হতে হবে এবং হ্যাচারিতে পৌঁছানোর আগে চেন্নাইয়ের জাতীয় Aquatic Quarantine Facility পার হয়ে আসতে হবে।

একজন চাষির জন্য কাজের যাচাই সহজ। জিজ্ঞাসা করুন, হ্যাচারিটি CAA রেজিস্টার্ড কি না, তার ব্রুডস্টক SPF কি না, এবং প্রতিটি ব্যাচের সঙ্গে PCR রিপোর্ট আসে কি না। Raj Hatcheries-এ ব্রুডস্টক SPF এবং প্রতিটি ব্যাচের সঙ্গে PCR রিপোর্ট দেওয়া হয়।

টেকনিক্যাল সহায়তা

নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল প্রশ্ন বা খামারের পরামর্শের জন্য আপনার আঞ্চলিক বিজনেস ইউনিটের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

বেঙ্গল জোন

পশ্চিমবঙ্গ

যোগাযোগ করুন: Alagarsamy

+91 97514 14892

চেন্নাই সাউথ জোন

তামিলনাড়ু

যোগাযোগ করুন: John Manoj

+91 99405 37604